আমি জীবিতদের কবর খুঁড়ছি, ভাবতেই খারাপ লাগে!


খারাপ লাগে

মানব সভ্যতা এখন এক বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করছে। সম্ভবত এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট।বদলে গেছে পৃথিবীর গতিপথ। প্রতিদিন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর নতুন সংখ্যা সম্পর্কিত খবর মানুষের মনে আতঙ্ক যেন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। করোনায় পুরো বিশ্বের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন কার্যত থমকে গেছে।

শিশু থেকে তরুণ কিংবা গর্ভবতী নারী, করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে রেহাই মিলছে না কারও। লন্ডনের বাঙালিপাড়াতেও বিরাজ করছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। মৃত্যুর দিক থেকে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৩৮৩ জন।

মৃত্যু হয়েছে ৪,৯৩২ জনের। অনেকেই মনে করেন, করোনা মোকাবিলায় বরিস জনসনের সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেজন্যই আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা এত বেশি।

প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় কাজ বেড়েছে কবরস্থানে কাজ করা কর্মীদের। প্রতিদিন খুঁড়তে হচ্ছে অসংখ্য কবর। বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কবরস্থানে আগে থেকেই কবর খুঁড়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে খুব দ্রুতই কবর দেওয়া হয়। তাই আগে থেকে নেওয়া হচ্ছে এই প্রস্তুতি।

যুক্তরাজ্যের মাউন্ট হক এবং সেন্ট অ্যাগনিস কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক ক্ল্যাইভ কালবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এই কবরস্থান কবর খুঁড়ি এবং সকল কিছু দেখাশুনা করি। আমি কখনোই আগে থেকে কবর খুঁড়ে রাখিনি। এটা ভাবতে খারাপ লাগে যে আমি যাদের জন্য কবর খুঁড়ছি তারা এখনও জীবিত।’

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২০৬টি দেশ-অঞ্চল ও ডায়মন্ড প্রিন্সেস ও এমএস জ্যান্দাম নামে দুটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীতে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ দুই হাজার ২৩৬। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ৭৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুই লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৭ জন। তবে চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads