সিলেটে খাদ্যের অভাবে বেকার হয়ে পড়া শ্রমজীবীদের বিক্ষোভ


sylhet

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সিলেটে বেকার হয়ে পড়া শ্রমজীবী লোকজন খাদ্যের জন্য বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (০৬ এপ্রিল) ইসলামপুর পুরাবাড়ি এলাকায় সিলেট সদর উপজেলার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শতাধিক নারী-পুরুষ খাবারের দাবিতে এ বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া দিনমজুর সিদ্দেক আলী বলেন, সরকার বলছে সবাই ঘরে থাকুন। আমরা বাড়িঘরে খাদ্য পাঠাব। কিন্তু আমরা এখনও কিছু পাইনি। বাধ্য হয়ে খাদ্যের জন্য রাস্তায় নামছি।

 
দিনমজুর জুহেরা বেগম বলেন, আমরা ঘরবন্দি। কাজকর্ম নেই, ঘরে খাবারও নেই। খাবার দেয়া তো দূরের কথা এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোনো খোঁজখবর নেন না। আমরা অনাহারে মরতে বসেছি। খাবারের অভাবে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছি।

চা-শ্রমিক জলিকা উড়াং বলেন, সবাই বলে সরকার অসহায়দের অনুদান দিচ্ছে। কিন্তু আমরা তো কোনো অনুদান পাইনি। সরকার যে কাজ বন্ধ করল, এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাড়িতে না খেয়ে মরতে বসেছি। ঘরে খাবার নেই। সরকার তো আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছে না।

ইসলামপুর পুড়াবাড়ি এলাকার দিনমজুর আব্দুল গফুর বলেন, আজ ১২ দিন ধরে আমরা অসহায়। সরকার থেকে একটা চালও পাইনি। দুদিন ধরে ঘরে খাবার নেই। আমার কাছে যে ৪০০ টাকা ছিল তা খরচ হয়ে গেছে। চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে গেলে তারা বলেন পুরো ইউনিয়নে দুই টন চাল এসেছে। এক গ্রামেই আমরা সাড়ে ৪০০ পরিবার। ত্রাণ দিয়েছে মাত্র পাঁচজনকে। আমাদের এখানে মাত্র দুটি পরিবারের অবস্থা ভালো। তারা দুই পরিবার ৩০-৩৫ পরিবারকে সহোগিতা করেছে। কিন্তু সরকারি কোনো খাদ্যসামগ্রী পাইনি আমরা।

 
এ ব্যাপারে ৩নং খাদিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইসলামপুর ওয়ার্ডবাসী বিক্ষোভ করেছেন, আমি শুনেছি। কিন্তু আমি কি করব বলেন? পুরো ইউনিয়নের জন্য মাত্র দুই টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এই পরিমাণ চাল দিয়ে সবাইকে ত্রাণ দেয়া সম্ভব না। যে এলাকার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন সে এলাকায় মাত্র পাঁচজন চাল পেয়েছেন। কিন্তু এই এলাকায় আরও ত্রাণ দেয়া প্রয়োজন। আমাদেরকে যে চাল দেয়া হয়েছে। একটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২২ পরিবারকে দিতে পেরেছি। কিন্তু ত্রাণ পাওয়ার মতো অনেক পরিবার আছে। অনেক খেটে খাওয়া মানুষ আমার ইউনিয়নে আছেন। এ অবস্থায় আমি অসহায়।

আরএইচ/আওয়াজবিডি

ads