বেতন নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটার ও বোর্ডের মধ্যে দ্বিমত


ইংল্যান্ড ক্রিকেট

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে ইউরোপে। ইংল্যান্ডেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগি ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। ইতিমধ্যে দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন দুই হাজারেরও বেশি।

ফলে অর্থনীতিক ক্ষতির মুখে দেশটি। দেশটির ক্রীড়াঙ্গনও থমকে গেছে। প্রিমিয়ার লিগের ফুটবল বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রিকেট সূচির খেলাও হচ্ছে না। এমনকি কাউন্টি ক্রিকেট কিংবা হানড্রেড বল ক্রিকেটও মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। ফলে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও (ইসিবি) দারুণ অঙ্কের অর্থ লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং হবেও।

এমন অবস্থায় চুক্তিভূক্ত ক্রিকেটারদের বেতন থেকে কিছু অংশ কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ইসিবি। এ জন্য খেলোয়াড়দের কাছে প্রস্তাবও দেয় তারা। তবে খেলোয়াড়রা বেতন কাটার প্রস্তাব পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখান করে।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা নিজ দায়িত্বে করোনা বিপর্যয়ের জন্য অর্থ দান করছে। জস বাটলার করোনায় সহায়তা করার জন্য নিজের বিশ্বকাপের জার্সিও নিলামে তুলেছেন। তবে ইসিবির দেওয়া বেতন কাটার সঙ্গে কেউ একমত হতে পারেননি কোনো ক্রিকেটারই।

ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান টনি আইরিসের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের জানায়, তারা ক্রিকেটারদের আগামী তিন মাসের বেতন থেকে ২৫ ভাগ করে কেটে নিতে চায়। কারণ, ইসিবি ও ইংল্যান্ড এখন কঠিন এক মুহূর্ত পার করছে। ইতিমধ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তা, কর্মচারীরা নিজেদের বেতনের ২৫ ভাগ করে ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে ক্রিকেটাররা তাতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তাদের আবার চিঠি দিয়ে ন্যূনতম এক মাসের বেতন থেকে হলেও ২৫ ভাগ ছেড়ে দিতে আহবান করে ইসিবি। তবে এবারও টম হ্যারিসনকে হতাশ করে ক্রিকেটাররা। ফলে ৩১ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, ক্রিকেটাররা এই পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করবে। আমরা সকলে মিলে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো। কিন্তু যে ধারণা ছিলো, খেলোয়াড়দের ভাবনা থেকে তা অনেক দূরে। আমরা তাদের আর কোনো অনুরোধ করবো না। আমরা শুধু তাদের সহযোগিতা চাইতে পারি এবং আশা করতে পারি, তারা যেন নিজ থেকে বিষয়টি অনুধাবন করার চেষ্টা করে।’

এসএ/আওয়াজবিডি

ads