পৃথিবীর জন্য পিপিই বানানো কিছু গার্মেন্ট সুরক্ষিকভাবে খোলা রাখা হোক


খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন মুন্নি

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের এক চিকিৎসকের বক্তব্যে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে যুক্তরাজ্যজুড়ে হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার শোচনীয় অবস্থা উঠে এসেছে। ময়লা ফেলার ব্যাগ মাথায় পরে রোগী দেখছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীরা। আমেরিকাতেও একই অবস্থা। সেখানকার ডাক্তাররা কালো রঙের পলিথিন ব্যাগকে পিপিই হিসেবে ব্যবহার করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

স্পেন এবং ইতালির অবস্থা জানা নেই কিন্তু ধারণা করতে পারি হয়তো একই। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আমাদের দেশকেও না জানি ওই অবস্থায় দেখতে হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছু গার্মেন্ট কেবল পিপিই বানানোর জন্য খোলা রাখার ব্যাপারটা কি চিন্তা করা যায়?

কোনো অবস্থাতেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা যাবে না, একইভাবে এই মুহুর্তে মর্তের ঈশ্বর ডাক্তার ও নার্সদেরও কোন অবস্থাতেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। ডাক্তার ও নার্স না বাঁচলে আমরা সাধারণ মানুষরা বাঁচতে পারবো না। বর্তমান দুর্যোগের সময়ে পৃথিবী আজ সীমানাবিহীন। সবার একটাই প্রার্থনা বেঁচে থাকার। অণুজীবের সাথে মনুষ্যকুলের যুদ্ধে মানুষকেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। বেছে নিতে হবে সঠিক পথ।

যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ক্রান্তিকালে পিপিই বানানোর অর্ডার দেয় আমাদের পুনরায় বিবেচনা করা উচিত কি? না, আমি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী নই, তাঁদের সাথে সখ্যতাও নেই আমার। কিন্তু এই দুর্যোগকালে পৃথিবীর প্রয়োজনে একবারও কি ভেবে দেখার সুযোগ আছে?

আমি গার্মেন্টস মালিকদের খোলা রাখার পক্ষে নই কেবল যারা পিপিই বানাবে তাঁদের জন্য খোলা রাখা জরুরি বলে মনে করি। পৃথিবীর প্রয়োজনে আমরা যদি আমাদের দেশের মানবসম্পদকে কাজে না লাগাই দায়ী থাকতে হবে। কারণ গার্মেন্টের বেশিরভাগ প্রোডাক্ট আমাদের দেশ থেকে যায়, এতো অল্প সময়ে অন্য কেউ বানিয়ে দিতে পারবে না যত দ্রুত পারবে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকরা।

খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও মানবজাতির জন্য মানবতার স্বার্থে একযোগে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। যারা পিপিই বানাবে, তাদের গার্মেন্ট আগেই খোলা রেখে বন্ধে যাওয়া যেতো। এখন সমন্বয়হীনতায় লেজেগোবরে অবস্থা কাটানো দরকার।

লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম

ads