এপ্রিলের ১৫ দিন কঠোর লকডাউন না শিথিলতা?


খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন মুন্নি

করোনাভাইরাসের থাবায় পৃথিবীজুড়ে ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা কমার আলামত নেই। এখনো কোথাও ভালো খবর নেই। পৃথিবীকে বিষাদের কালোছায়ায় আচ্ছন্ন করে রাখার দুঃসংবাদ কেবল। যারা সুস্থ হচ্ছেন তাদের সংবাদ তলিয়ে যাচ্ছে আক্রান্ত আর মরণের বিশাল খবরে। কেউ বলছে না ভালো আছি। কেউ জানাননি করোনার নির্দয়তা থেকে করুণা মিলছে। লকডাউনে যাওয়া পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধ চলছে করোনার ভয়ঙ্কর অভিশাপ থেকে বাঁচার।

অচেনা পৃথিবীর সব থেমে গেছে। অর্থনীতির কি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পৃথিবী পড়তে যাচ্ছে সেই সতর্কবার্তাও উপেক্ষিত আজ। মানবজাতির লড়াই এখন একটাই। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার। পৃথিবীজুড়ে মানুষ গৃহবন্দি। সচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব, সঙ্গরোধ আইসোলেশনই একমাত্র চিকিৎসা। শ্বাসকষ্ট বাড়লেই অক্সিজেন, আইসিইউ ভেন্টিলেশনে নেয়া— রোগীকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হিমশিমে উন্নত দেশ।

ইউরোপ আজ মৃত্যু উপত্যকা। ইতালিতে লাশের পিরামিড। এতো লাশ কোথায় রাখবে, কোথায় দাফন করবে? ফ্রান্সের অবস্থা করুণ। স্পেনের চিত্র ভয়ঙ্কর মৃত্যুযন্ত্রণার। সর্বাধিক আক্রান্ত রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। নিউইয়র্কে হিসেব চলছে ঘন্টায় কত লাশ। উন্নত দুনিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণদশা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত। কত অসহায় তারা! কিট নেই, পিপিই নেই, শয্যা নেই, আইসিইউ নেই, ভেন্টিলেশন নেই! নেই নেই আওয়াজে অসহায় পৃথিবীর মানুষ আক্রান্ত স্বজনকে নিয়ে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশে দাঁড়িয়ে।

শোকে আচ্ছন্ন পৃথিবী এমন মৃত্যু ও অসহায়ত্ব একযোগে এমনভাবে কখনো দেখেনি। ১৯৯দেশ আক্রান্ত আজ। কোথাও ভয়াবহ কোথাওবা সহনীয়, কিন্তু কেউ বলতে পারছে না শেষ পরিণতি কি? আক্রান্তের উপসর্গ যেমন বদলায় তেমনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নতুন বার্তা। ১০ লাখের দিকে আক্রান্তের খবর যাচ্ছে, অর্ধলাখের দিকে ছুটছে মৃত্যুর হিসাব!

কম জনগোষ্ঠির উন্নত ধনী দেশের যেখানে করুণ বিপর্যয় সেখানে বিশাল জনগোষ্ঠির এতো সীমাবদ্ধতার বাংলাদেশ আক্রান্ত হলেও এখনো ভয়াবহ অবস্থা হয়নি। আমরা দেখতেও চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রশাসন, সকল সামরিক বেমরিক বাহিনী, রাজনৈতিক শক্তি, মানুষ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী থেকে গোটা জনগণ অপ্রতিরোধ্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ। মানবিক বিত্তবানরাও সরকারের পাশে। চীনও বলেছে পাশে থাকবে।

এদিকে চলমান অঘোষিত লকডাউনের ছুটি বাড়লেও গরিব মানুষকে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কাজে যাওয়ার জন্য শ্রমজীবি একটা অংশকে শিথিলতাও দেয়া হবে। কিন্তু স্পেনে যেখানে লাঠিপেটা করে মানুষকে গৃহবন্দি করা হচ্ছে, দেশে দেশে জরিমানা, শাস্তি দেয়া হচ্ছে সেখানে আমাদের এখানে কতোটা সঠিক হবে এ উদ্যোগ? জাতিসংঘের আশঙ্কা করোনা আক্রান্ত হয়ে আমাদের ২০ লাখ মানুষ মারা যাবে।

আমেরিকা ২ লাখের মধ্যে রাখতে চাইছে। আমাদের দেশে সংক্রমণ মাত্র ঘটছে। এখনই কঠোরতা আরও বেশি আরোপ না করে শিথিলতা দিলে পরিণতি কি ভয়াবহ হবে না? মাত্র চিকিৎসা ব্যবস্থা সংগঠিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন এই মাস করোনায় আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর। তাহলে কি আরও ১৫ দিন কঠোর লকডাউনে রাখা জরুরি না? প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে আলোচনা করে কি বিবেচনা করবেন?

লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads