আমেরিকার জন্য আগামী সপ্তাহ সবচেয়ে কঠিন: জেরোমি অ্যাডামস


মার্কিন সার্জন জেনারেল জেরোমি অ্যাডামস

মার্কিন সার্জন জেনারেল জেরোমি অ্যাডামস সতর্ক করে বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমেরিকার জনগণের জন্য আগামী সপ্তাহ সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক সময় হবে।

রবিবার মার্কিন ফক্স নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলকে অ্যাডামস একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণের জন্য হবে এই সপ্তাহটা সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক সময়। এ সপ্তাহ হবে মার্কিন জনগণের জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি মার্কিন জনগণকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানান।

জেরোমি অ্যাডামস বলেন, আগামী একমাস যদি আমেরিকার জনগণ তাদের অংশের দায়িত্ব পালন করে তাহলে আমাদের সামনে আশা আছে এবং আমরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আশার আলো দেখতে পাবো।

আমেরিকায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া দুর্বল ব্যবস্থার কারণে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ। আর মারা গেছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের ৬৯ হাজার ৩৬৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৮৫০ জন। আর ২ লাখ ৬১ হাজার মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় সবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৩ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে মৃত্যু মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৬০২ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত ৫৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে নিউইয়র্কে মৃতের সংখ্যা এখন ৪ হাজার ১৫৯।

যুক্তরাষ্ট্রের পরই করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপরে দেশ স্পেন। দেশটিতে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ জন করোনায় আক্রান্ত। সেখানে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৬৪১ জনের।

করোনায় মৃতের দিক দিয়ে সবার উপরে রয়েছে ইতালি। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দেশটিতে ১৫ হাজার ৮৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৪৮ জন।

তবে করোনায় ইতালিতে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে রোববার সর্বনিম্ন সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টানা দুইদিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা কোভিড-১৯ রোগীর হারও কমেছে দেশটিতে।

ইতালির সিভিল প্রটেকশন এজেন্সি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তাদের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে রবিবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ৫২৫ জন মারা গেছেন।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads