যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট ৭৬

বাড়ছে আতঙ্ক, ঝরছে প্রাণ; পাষাণ করোনা প্রবাসীদের বুক ছিঁড়ে করছে ছানখান


মৃত্যু

প্রানঘাতী করোনাভাইরাসের মরণ ছোঁবলে যেখানে থমকে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা, সেখানে বেঁচে থেকেও প্রাণের স্পন্দন হারাতে বসেছেন অনেকেই।

দেশের পর দেশ লকডাউন। বাড়ি থেকে বেরোনো বারণ, বারণ মানুষের সঙ্গে মানুষের সময় কাটানো। কত মানুষ এই সামাজিক দূরত্বে বিরহ-ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন, কত মানুষ আরও দূরে সরে যাচ্ছেন প্রিয়জনের থেকেও। গোটা বিশ্ব যেন এক বিষণ্নতায় ডুবে যাচ্ছে ক্রমে।বিষন্নতায় দিন পার করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতিটি দিন যেন এখন আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এলেও মৃত্যুর সংখ্যা যেন কমছেই না। স্থানীয় সময় রোববার (৫এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় নিউইয়র্কে আরও কিছু স্বদেশির প্রাণ ঝরেছে। আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক শতাধিক।

ভাইরাসের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদ, সাইফুল আজাদ, হাফেজ রুবেল,তামিনা ইসলাম খান, বাচ্চু মিয়া, মোঃ আজাদুর রহমান, তোফায়েল আহমদ, বাবুল মিয়া(ওজনপার্ক), বাবুল মিয়া (ব্রুকলিন), মওলানা ইসহাক মিয়া ও ব্রঙ্কসে বসবাসকারী ইসরাত জাহান উর্মির মা।

এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৬ জন বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। যার মধ্যে নিউইয়র্কেই করোনার মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারের কোনো স্বজন বা পরিচিত মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারে অনেকেই অজানা আতঙ্কে ভুগছেন।

এদিকে কামাল আহমদের মৃত্যু সংবাদের ধকল কাটাবার আগেই সাবেক দুইবারের সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিজ মোহাম্মদ করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশ হলে প্রবাসীদের মধ্যে বিষাদ-বেদনা আর গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ছবিসহ শোক বাণী, শ্রদ্ধা, স্মৃতিচারণ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের 'মানবতার ফেরিওয়ালা' খ্যাত কামাল আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠন।

ads