এবার ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিউইয়র্কে ক্ষতিকর রাঁধুনী মসলায় ডিসকাউন্ট


রাঁধুনী

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত স্কয়ার গ্রুপের রাঁধুনী কারি পাউডারে ‘সালমোনেলা’ নামের ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়ার পর এবার বাংলাদেশি মালিকাধীন গ্রোসারিগুলোতে মসলা সেল ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

আওয়াজবিডি অনুসন্ধান টিম কিছু বাংলাদেশি গ্রোসারি দোকানে পরিদর্শন করলে দেখা যায় দেশিদের আকৃষ্ট করতে রাঁধুনী হালিম মিক্স, রাঁধুনী চটপটি মিক্স ছাড়াও অন্যান্য মসলায় এই 'সেলের' বিজ্ঞাপন জুড়ে দেওয়া হয়।

আগত ক্রেতাদের প্রশ্ন করলে তারা আওয়াজবিডিকে জানান, নিজের দেশের পণ্য তাই এই গুঁড়া মসলা ব্যবহার করে আসছি অনেক বছর ধরে। যেহেতু ডিসকাউন্ট পাচ্ছি তাই কিনে নিচ্ছি।

এরপর ওই ক্রেতাদের মশলার ক্ষতিকর জীবাণু সম্পর্কে অবগত করলে তারা মসলাগুলো রেখে কেটে পড়েন।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে এই মসলার সরবরাহকারী ‘হক অ্যান্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোমধ্যে ‘দ্য ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনেস্ট্রেশন’ প্রাথমিক নোটিশ পাঠিয়ে সমস্ত মসলা বাজার থেকে উঠিয়ে নিতে বলেছে।

এ নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যম ‘সিবিএস নিউইয়র্ক’ একটি সংবাদ পরিবেশন করেছে।

হক অ্যান্ড সন্স-এর কর্ণধার একেএম ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা নোটিশ পেয়ে ১৪ মে সকল পণ্য বাজার থেকে তুলে নিয়েছি। কেউ যদি নির্দিষ্ট তারিখের ‘কারি পাউডার’ কিনে থাকেন বা কোনো দোকানে বিক্রির খবর পান তাহলে আমাদের জানাবেন। রিফান্ডে দেওয়া হবে’।
তিনি বলেন, ‘অনেক অসাধু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আছেন তারা লোকাল পণ্য কিনে এখানে বিক্রি করছেন। সবাইকে অনুরোধ করব দয়া করে হক অ্যান্ড সন্স-এর সিল দেখে পণ্য কিনুন। স্কয়ার রফতানির আগে সকল পণ্য সরকারী পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করিয়ে আনা হয়’।

কারি গুঁড়া মসলা জামাইকা, জ্যাকসন হাইটস এবং ব্রঙ্কসের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয়েছিল। এটি ১৭ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। গুঁড়াটি ৪০০ গ্রাম স্বচ্ছ প্লাস্টিকের জারে ০১/০২/২০২২ মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখে বিক্রি হয়েছিল।

এতে এখন পর্যন্ত কোনো অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সালমোনেলা কখনো স্বল্পাকারে এবং কখনও কখনও মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে অল্প বয়সী শিশু, দুর্বল বা বয়স্ক ব্যক্তির জন্য। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে তোলে।

ads