গাইবান্ধায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ২০০, বাড়ি ফিরে গেছে ৭ জন


হোম কোয়ারেন্টিন

করোনা ভাইরাসে গাইবান্ধায় ১ এপ্রিল বুধবার নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর তাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কোন প্রমাণ না পাওয়ায় ৭ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে ১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে এখন পর্যন্ত আমেরিকা প্রবাসী দু’জনসহ তার সংস্পর্শে আসা আরও দু’জনসহ মোট ৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এরমধ্যে ৩ জন গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেসন ও অপরজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আইসোলেসনে রয়েছে।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ২০০ জন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এরমধ্যে সদরে ৪৪, ফুলছড়িতে ৪, সুন্দরগঞ্জে ৪৫, সাঘাটায় ১১, পলাশবাড়িতে ৫, গোবিন্দগঞ্জে ৩৯ ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় ৪৩ এবং বগুড়া জেলায় ৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এছাড়া জেলা সদর হাসপাতালে ১ জনকে সন্দেহজনক হিসেবে পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ জানান, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদেশ ফেরত ২০০ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা করোনা ভাইরাসের সন্দেহ দেখা দিলেই সন্দেহভাজন রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করছে এবং তা দ্রুত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করছে। ঢাকা থেকে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল না জানা পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। তদুপরি তারা যাতে নিয়মের বাইরে না চলে সেজন্য তাদের উপর কড়া নজরদাড়ি রাখা হচ্ছে।

এদিকে বুধবার জেলা প্রশাসকের এক প্রেস রিলিজে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভায় ৭ হাজার ৩শ’ দরিদ্র শ্রমজীবি কৃষক পরিবারের মধ্যে ৭৩ মে. টন খাদ্য সামগ্রী ও ৬ হাজার ৯শ’ পরিবারের মধ্যে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ভান্ডারে ১শ’ ৫০ মে. টন খাদ্য সামগ্রী ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে।

অপরদিকে করোনা ভাইরাসে আতংকে গাইবান্ধার কর্মহীন দরিদ্র শ্রমজীবি, কৃষি শ্রমিক, কৃষিজীবি ও দিনমজুর পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। কাজ না থাকায় ঘরের সামান্য মজুদের উপর নির্ভর করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম হলে আয় কমে যাওয়ায় এখন তাদের সাংসারিক চাহিদা মেটাতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় তাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। করোনা ভাইরাস জনিত কারণে লক ডাউন করায় সমস্ত দোকানপাট, ব্যবসা- বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া করোনা ভাইরাস আতংকে লোকজন এখন ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকায় শ্রমজীবিদের মধ্যে রিক্সা, ভ্যান, অটোবাইক, ম্যাজিক, বাস- ট্রাক ড্রাইভার হেলপারগুলোর আয় বহুলাংশে কমে গেছে। শহর-বন্দর ও গ্রামগঞ্জে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন যানবাহন চালিয়েও যা আয় হচ্ছে তাতে তাদের দৈনিক ভাড়া পরিশোধ করার পর হাতে যা থাকছে তা দিয়ে তাদের সংসারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শহরের ক’জন রিক্সা চালক, ভ্যান চালক ও অটোবাইক চালকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়া কৃষি ক্ষেত্রে এখন কোন কাজ না থাকায় পেশাদার কৃষি শ্রমিকরা পড়েছে চরম বিপাকে। কারণ এ সময়গুলোতে তারা দিনমজুরীতে অন্যান্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

কিন্তু করোনা ভাইরাস আতংকে সব রকম কাজকর্মসহ নির্মাণ কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পেশাদার দিনমজুররা কোন কাজ পাচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিন কর্মহীন থাকায় অর্থ সংকটে পরিবার-পরিজন এবং দৈন্যন্দিন সাংসারিক চাহিদা পূররণ করতে পারছে না। এদিকে দোকানপাট ও ব্যবসা বাণিজ্য এবং ছোট ছোট কারখানাগুলো এসমস্ত প্রতিষ্ঠানে দিন চুক্তিতে কাজ করা কর্মরত কর্মচারিরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবি হকাররা বেচাকেনা করতে পারছে না।

কেননা শহর-বন্দরে লোকজন না থাকায় তাদের হকারি ব্যবসা একেবারেই চলছে না। এ সকল দিনমজুর, হকার, দোকান কর্মচারি, পেশাজীবি কৃষি শ্রমিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস আতংকে লক ডাউনের এই সময়টিতে সহায়তা প্রদান একান্ত অপরিহার্য। এব্যাপারে তারা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের কাছে ত্রাণ সহায়তা প্রত্যাশা করছে।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads