প্রসূতিদের নিচ্ছে না হাসপাতাল, গর্ভেই সন্তানের মৃত্যু!


\গর্ভেই সন্তানের মৃত্যু!

করোনাভাইরাসের কারনে বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েরা ঠিক মতো স্বাস্থ্য সেবাপাচ্ছেন না । এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার মধ্যেই সন্তানের জন্ম হচ্ছে। সেবা বঞ্চিত হয়ে কখনো মারা যাচ্ছে মা, আবার কখনো সন্তান। জ্বর হলেই সেবা মিলবে না, এমন ভাবনা অমূলক বলছেন চিকিৎসকরা।

প্রসব বেদনায় ছটফট করলেও শরীরে তাপমাত্রা বেশি থাকায় গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় কিশামত বাগচি গ্রামের মোর্শেদাকে। টানা দু'দিন বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরেও সেবা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত গর্ভেই মারা যায় তার সন্তান।

মোর্শেদা বলেন, করোনার ভয়ে তারা আমাকে ধরেই নাই।

গত ৬ এপ্রিল রাতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার পর রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন এক মা। সবশেষ ২৫ এপ্রিল রাতে সাদুল্লাহপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না নেয়ায় হাসপাতালের গেটে সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলছেন সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, একজন প্রসূতি মা জ্বরের কথা বলতেই আমি তাকে দেখবো না, এটা অগ্রহণযোগ্য।

জ্বর-কিংবা সর্দি-কাশি থাকলে আগে থেকে প্রসূতি মায়েদের প্রসব পরিকল্পনা করার পরামর্শ সিভিল সার্জনের।

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, যেসব মায়েদের জ্বর-ঠাণ্ডা আছে, তাদের যেখানে আগে সেবা পাওয়া যায় সেখানে যাওয়া উচিত। বিপদের সময় না।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রতিমাসে দু'শতাধিক প্রসূতি মা সন্তান প্রসব করেন। এপ্রিল ও মে মাসে সেই সংখ্যা দেড়শ'রও নিচে নেমেছে।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads