বাপ-মা বাইরে যেতে চাইলে দরকার হইলে লকাপে ভরে রাখেন


জান্নাতুল নাঈম প্রীতি

গতকাল ১৮, আজকে ৩৫, আরও ৪ জন মৃত। কথা শোনেন এবার। আমি আমার মায়ের তিন ফুটের মধ্যে আসি না আজ নিয়ে ২২ দিন। আমার নার্ভ খুবই শক্ত এটা টের পেয়েছিলাম তখন যখন আমি মামার হাসপাতালে ভয়াবহ এক্সিডেন্ট নিয়ে আসা ইঞ্জুর্ড রোগীদের ট্রিটমেন্ট দেয়ায় হেল্প করতাম, বিশেষ করে রক্ত পুঁজ ফেলে ড্রেসিং করা (যেটা আমি নিজের এক্সিডেন্টেও করেছি)।

কিন্তু এখন নিজের নার্ভের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করছি, কারণ প্যান্ডেমিক ঠেকানোর পলিসিই বাংলাদেশের নাই। যারা লক্ষ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকের ঢাকায় ফেরা আর মসজিদ মন্দির অফ রাখাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা ঠেকাবে প্যান্ডেমিক?

একজন বন্ধু আছে, আমার শেয়ার করার সবচেয়ে বিশ্বস্ত জায়গা সে। তার করোনা হয়েছে সেটা আমি জেনেছি তিনদিন আগে। তার পাশের ফ্ল্যাট এবং পুরো এরিয়া করোনা পজিটিভ, কয়দিন আগে তার পাশের ফ্ল্যাটের লোক মারা গেছে এতে।

তাদের এলাকায় প্যারামেডিকরা বাসায় যায় না দুই সপ্তাহ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছের তার সিটির গভর্নর আর্জি জানিয়েছিলো ভেন্টিলেটর চেয়ে, সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। বুঝতেই পারছেন আমেরিকার যেখানে এই অবস্থা সেখানে বাংলাদেশের কি অবস্থা হতে পারে তা ভাবতেও আমার ভয় করে। আমি আশাকরি সে সেরে উঠবে, কিন্তু কিভাবে তা মাথায় কাজ করে না। তারপরও আমি তাকে সাহস দেয়ার চেষ্টা করি।

ফ্যামিলির কথায় আসি। দুনিয়ার সবচেয়ে সতর্ক এবং লক্ষী বাবা-মা আমি পেয়েছি। তারা বাইরে যায় না, কাউকে বাসায় আসতে দেয় না সে প্রায় ২১ দিন। কিন্তু আমি তাদেরকে নিয়ে অদ্ভুতভাবে চিন্তিত।

যেমন ধরেন তারা পশুপাখিকে খাবার দেন। আমার মায়ের বাধ্যগত ডজনখানেক কাঠবেড়ালি, কাক প্রতিদিন খাবার খেতে রান্নাঘরের জানালায় আসে, এছাড়া পাড়ার কুকুর আছেই। এই কাঠবেড়ালী বা কাক কিংবা কুকুররা কেউ এই ভাইরাসের হোস্ট না তা নিশ্চিত কীভাবে হবো?

আজ ওয়াশিংটন পোস্ট রিপোর্ট করেছে- আমেরিকার একটা চিড়িয়াখানার বাঘ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ। বাবা-মার কার্ডিয়াক এরেস্ট আছে। এদের খাবার দিতে নিষেধ করা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ব্যাপার হবে। কিন্তু বাপ-মা এফেক্টেড হলে সেটা হবে আরও বেশি। আমি কি করবো?

বড়ো ভাই যেখানে থাকে ঢাকার সেটার পাশে করোনা এফেক্টেড জোন- টোলারবাগ, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্রেকথ্রু আবিষ্কার করা সায়েন্টিস্ট মেজভাই অস্ট্রেলিয়ায় যেখানে সেই মেলবোর্ন ফাঁকা হয়ে গেছে, তারা ল্যাবে যায়না, তারপরও তাদের কেমনে কেমনে ছড়াচ্ছে। বড়ো বোন প্রেগন্যান্ট এবং সে নিজে বায়কেমিস্ট্রির এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, তারপরও তারে নিয়া চিন্তা নামাতে পারিনা মাথা থেকে।

যেহেতু দুনিয়ার বহু বইপত্র এবং জার্নাল পড়ি সেহেতু আমি বুঝতে পারি আমাদের প্রতিটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাই একটা করে বেহুলার বাসর ঘর। অসংখ্য ফাঁক। যেহেতু গণিতের প্রবাবিলিটির সূত্র জানি সেহেতু এও জানি যে আজ বা কাল হোক, একমাত্র ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ছাড়া এই জিনিস ঠেকানোর ক্ষমতা আমাদের নাই।

লক ডাউনের যে পলিসি সেটা দেয়ার কারণ এইটাই যে এই প্যান্ডেমিক যেন ধীরে সুস্থে ছড়ায়, সারা দুনিয়ার কোনো দেশেরই পুরো জনসংখ্যার ৭০%কেও একসাথে হাসপাতালে রাখার ক্ষমতা নাই। আর বাংলাদেশের আরও কিছু নাই, কারণ তাদের সচেতন মানুষ ১০%ও না, ধর্মান্ধ অশিক্ষিত দুর্নীতিবাজরা টাকা কি জানে, কিন্তু শিক্ষা আর বিজ্ঞান কি, ভাইরাস কেমনে কাজ করে জিজ্ঞেস করলে হা করে থাকে।

আমি নিজের চিন্তা করা ছেড়ে দিছি। আমি পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে, আন ম্যারিড, পিছুটান নাই। আমি চাই ঝড় আসলেও সেইটা আমার ওপর দিয়ে যাক। আমি জানি এই যুদ্ধে আপাতত কোনো অষুধ না থাকলেও একটা অষুধ আছে, সেইটা- মনোবল আর সচেতনতা।

আপনারা নিজেদের ফ্যামিলি প্রটেক্ট করেন। বাপ-মা বাইরে যেতে চাইলে দরকার হইলে লকাপে ভরে রাখেন। দেশ ও জাতির চিন্তা করেন নিজের ফ্যামিলি রেস্কিউ করার পর।

It's the high time to concentrate on your own family. Understand it please!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads