অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে প্রবাসী শ্রমবাজার


প্রবাসী

করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত প্রবাসী শ্রমবাজার। নতুন করে প্রবাস যাত্রা যেমন থেমে গেছে, তেমনই কাজ হারিয়ে ফিরতে হতে পারে মোট প্রবাসীর অর্ধেকেই। ইতিমধ্যে চাকরি হারিয়ে অনেককেই বেকার জীবন যাপন করছে প্রবাসের মাটিতে। যার প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয় ও তাদের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষের জীবনযাত্রায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট কাটাতে প্রয়োজন সরকার ও সচেতন মহলের সমন্বিত উদ্যোগ। করোনার সঙ্গে লড়ছে বিশ্ব। কোটি প্রবাসীর কাছে এ লড়াই কেবল রোগের বিরুদ্ধে নয়, তারা লড়ছেন জীবিকা বাঁচাতে, স্বজনদের অন্ন যোগাতে।

করোনার প্রকোপে বিশ্বের নানা দেশে থাকা প্রবাসীদের অনেকেই কাজ হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে হাঁটছেন। ২ লাখের বেশি প্রবাসী ছুটিতে এসে আর ফেরত যেতে পারেনি। যাদের মধ্যে অধিকাংশের ফেরার পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

সৌদি থেকে ছুটিতে আসো এক প্রবাসী বলেন, কোম্পানী জানিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশেই থাকতে হবে। দেশে এখন প্রায় চার মাস যাবত বেকার দিনযাপন করছি। জানিনা শেষপর্যন্ত ভাগ্যে কি আছে। আমার দিকে তাকিয়ে আছে পুরো পরিবার।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, অক্টোবরের মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশই করোনার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠবে। তখন তারা জনশক্তি আমদানি করবে। তবে বাংলাদেশ করোনামুক্ত না হলে সে সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।

বায়রা মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, করোনার কারণে লকডাউনে ঘরবন্দী আছেন অনেক প্রবাসী। বেতনও ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা।

কাজ হারিয়ে দেশে ফেরাদের পুনর্বাসনে ২’শ কোটি টাকার ফান্ড গঠনের কথা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশে আসলে প্রবাসীরা কিভাবে তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। তাদের জীবন সুন্দর করে যাতে গড়ে নিতে পারেন সেজন্য তাদের লোন দেওয়া হবে।

স্বপ্নভরা চোখ আর সামর্থ্যের সবটা দিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়া মানুষগুলোর অনেকেরই এখন চোখ ভরা শূন্যতা। নিজের আর প্রিয়জনের নিরাপদ ভবিষ্যত গড়ার বিপরীতে এখন, অনিশ্চয়তার চোখ রাঙানি।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads