দামপাড়ায় লকডাউনে থাকা পরিবার পালিয়ে এখন বোয়ালখালীতে!


Dampara

চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়ায় এক বৃদ্ধ ও তার ছেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকার ৬টি বাড়ি লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। অথচ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ বলছে, ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসা একটি পরিবার এখন বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যম শাকপুরা এলাকায় গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে! এলাকাবাসী থেকে খবর পেয়ে তারা ইতোমধ্যেই ওই বাড়ি লকডাউন করেছেন।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় দামপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এই পরিবারটি সেদিন রাতেই বোয়ালখালীতে পালিয়ে যায়।

 
এদিকে লাকডাউন অমান্য করে ওই পরিবারের বোয়ালখালীতে যাওয়ার ঘটনা হতবাক করেছে এলাকাবাসীকে। তারা বলছেন, প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে পুরো পরিবার গ্রামে আসায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

 

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দেদার তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, দামপাড়ায় লকডাউনে থাকা মানুষ পুরো পরিবার নিয়ে কেমনে পালিয়ে যায়! দায়িত্বপ্রাপ্তরা কই?

বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী তারা ফেসবুক ওয়ালে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, চট্টগ্রাম এর প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকার সন্দেহে বোয়ালখালীতে দুই পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিন এ থাকার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। উপজেলার চরখিদিরপুর বড়ুয়াপাড়া এলাকার একজন বাস্কেট সুপার শপ এ চাকরি করত, সুপার শপটি লকডাউন করার পরে সে নির্দেশ অমান্য করে গ্রামে এসে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করতে থাকে।

এছাড়াও মধ্যম শাকপুরা এলাকার একজন নির্দেশ অমান্য করে দামপাড়া থেকে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ওঠে। এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। ফেসবুক মেসেঞ্জারে এলাকার লোকজন খবর দেয় তাদের বিষয়ে। উপজেলা প্রশাসন বোয়ালখালী চট্টগ্রাম এর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সতর্কতা হিসেবে লাল পতাকা এবং ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর সদস্যরা, বোয়ালখালী থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তার বাসা চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকার দামপাড়া এক নম্বর গলিতে। এ ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ওই গলির ছয়টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বোয়ালখালী থানার ওসি আব্দুল করিম  বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা উপজেলার চরখিদিরপুর বড়ুয়াপাড়া ও মধ্যম শাকপুরায় দু’টি বাড়ি লকডাউন করেছি। এরমধ্যে ওই পরিবার দামপাড়া এলাকার বাসা থেকে পুরো পরিবার নিয়ে গত তিন তারিখ বোয়ালখালি চলে আসে। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

বোয়ালখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন  বলেন, ‘পরিবারটি দামপাড়া এলাকা থেকে এসেছে এটি নিশ্চিত। কোন ভবন থেকে এসেছে তা নিশ্চিত হতে আমরা কাজ করছি। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তাদের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন  বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এখনো আমাদের জানায়নি। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে পুলিশ কী করছে? লকডাউনতো আমরা বাস্তবায়ন করছি না।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম মেট্রোপোলিটন পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান ও চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

আরএইচ/আওয়াজবিডি

ads