পূর্ণ লকডাউন চান মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল

করোনার বিস্তার কমাতে পূর্ণ লকডাউন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি তো মনে করি যে, পরিপূর্ণ লকডাউন করা উচিত। দ্যাট ইজ দ্যা অনলি এনসার। যে ভয়াবহতা আসছে, এখনো রিয়েলাইজ করতে পারছে না তারা। ২৭ দিন হয়ে গেছে। অলরেডি কিন্তু গতকালের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এটা জ্যামিতিক হারে বাড়বেই। ওই জিনিসটা যদি আমরা উপলব্ধি পারি, আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি, আমরা ওইভাবে পরাজিত করবো, পরাজিত তো অবশ্যই করবো। তবে তার জন্যে যে অস্ত্র দরকার, যে উইপেন্স দরকার, সেই উইপেন্সগুলো তো আমরা পাচ্ছি না।

ফখরুল বলেন, আজকে একটা পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে যে, ৮৭% হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা নেই। যেমন আপনার এপেনডিসাইটিজ হলো, আপনি চাইবেন যে, ডাক্তারের কাছে গিয়ে আলট্রাসোনোগ্রাম করা হোক, সেটা আপনি পাবেন না। আপনার হার্ট এ্যাটাক হলো হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পাবেন না। জাস্ট ফ্যাক্ট। এই বিষয়গুলো সরকার নজর দিচ্ছে বলে আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখছি না। অন্যদিকে সমন্বয় কোনোখানেই নেই। এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করেছে এবং প্রথম দিক থেকে প্রত্যেকটা ইস্যুতে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এই সরকারের ওপর থেকে প্রায় চলে গেছে।

করোনা মোকাবিলায় বিএনপি নেতারা ঘরে বসে শুধু অভিযোগ করছে, করোনা মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা নেই - আওয়ামী লীগ নেতাদের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্যের একটাই প্রতিক্রিয়া হলো- দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারের। ইতিমধ্যে আমাদের নেতা-কর্মীদের যতটুকু নিরাপত্তার মধ্যে রেখে নেতা-কর্মীরা কর্মজীবী দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারা খাবার দিচ্ছেন, তারা মাস্ক দিচ্ছেন। সিলেটে মেয়র জানেন যে, তিনি বৃহৎ আকারে খাবার নিয়ে মানুষের পাশে যাচ্ছেন, প্রত্যেকটা জেলা, প্রত্যেকটা উপজেলা, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে আমাদের নেতা-কর্মীরা কাজ করছে। ফলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য সঠিক নয়, এসব অলিক অভিযোগ। এখন কী অভিযোগ করা সঠিক?

ফখরুল বলেন, গতকাল আমরা করোনার মহাদুযোর্গ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কিছু আবেদন রেখেছি। তার প্রতিউত্তরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, যে মন্তব্যগুলো করেছেন যে, এটা আশা করি নাই যে, তার মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উনি এই ধরনের মন্তব্য রাখবেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রেন্সপনড করেছে। এটা পজিটিভ তখনই বলতে পারতাম যদি আমরা দেখতাম যে, আসল সমস্যার সমাধান করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের, ইনফরমাল সেক্টরের কৃষকদের, তাদের কোনো কথা এখানে(প্রণোদনা প্যাকেজ) নেই। এখানে আমার কাছে যেটা মনে হয়ে যে, ৭২ হাজার কোটি টাকা..। এই কোটি টাকা তো এমনি একটা জনগণ মধ্যে বলবে যে, ৭২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দিয়েছে তো ঋণ, পুরোটাই ঋণ। এখানে অনুদান বলতে কিছু নেই। সব ঋণের প্যাকেজ।

খেটে খাওয়া মানুষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ ‘দিন আনে দিন খায়’ গরীব মানুষের জন্য আমরা সরকারকে ১৫ হাজার কোটি টাকা দেয়ার কথা বলেছিলাম। সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলাম এটা অনুদান দিতে হবে। আমরা বলেছি, ভাতা বাড়াতে, চিকিৎসক-নার্স, চিকিতসাকর্মীদের প্রণোদনা দিতে হবে, স্বাস্থ্যখাতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে।

ফখরুল বলেন, শুধুমাত্র ঋণ নয়। আপনাকে এভাবে তাদেরকে অনুদান, ভাতা, বেতন বাড়িয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরী, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেইভাবে কথা বলেননি। ‘দিন আনে দিন খায়’-এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। আনফুরচুনেটলি সেই সেক্টরের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মধ্যে কোথাও, তার প্যাকেজের মধ্যে কোথাও সেই ধরনের কিছু আমরা দেখতে পাই নাই। রেমিট্যান্স যারা পাঠান তাদের কোনো কথা এই প্রণোদনা প্যাকেজে নেই।

গার্মেন্টস খাতের প্রণোদনা শ্রমিকদের কাছে যাবে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে প্যাকেজে কোনো কথা নেই। এখানে হেলফ সেক্টারটা একেবারেই নেগলেটেড, কোনো কথাই বলা হয়নি। আপনার যেটা দরকার পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা বলেছেন ডাব্লিউএইচও প্রধান বলছেন। অথচ বাংলাদেশে এখন পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। যেখানে যাবেন বলবে যে, এখানে হবে না। ভেন্টিলেটর কত আছে আপনারা জানেন। আরো বেশি সেটা তৈরি করার কোনো কথা এখানে(প্রণোদনা প্যাকেজে) নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, এটা (করোনাভাইরাস) মানবসভ্যতার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করার জন্য আমরা সবাই হাত বাড়িয়ে আছি, আমরা সবাই উদ্যোগী আছি। তারপরেও তারা বলছেন যে আমরা নাকী এমন এমন কথা বলছি যে, দায়িত্বজ্ঞানহীন-কান্ডজ্ঞানহীনের মতো কথা বলছি। কোথায় দেখালেন তারা এসব?

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তো ২৭ টা দফা দিয়েছি। তার বর্ণনা দিয়েছি। প্রত্যেকটা বিষয় যুক্তসঙ্গতভাবে বলেছি। আজকে সরকার দুর্ভাগ্যজনকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এই করোনাভাইরাসকে মোকাবিলার জন্যে। যেই মানসিকতার দরকার ছিলো, আমি প্রস্তুতি বলব না, যে মানসিকতা সেটাকে তৈরি করবার জন্য তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

এসএম/আওয়াজবিডি


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://awaazbd.net/author/awaazbdonlinenews

অনলাইন ডেস্ক

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ